“জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক জনগণ, জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ”: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী আপামর জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্বলিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের আসল রূপ ও মুখোশ উন্মোচন করবে এবং এটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক যুগান্তকারী দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মারক ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গণতান্ত্রিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও চব্বিশের চেতনা

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচনকে ঐতিহাসিক মাইলফলক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

  • ইতিহাসের সংরক্ষণ: গুম, খুন, অপহরণ ও দেড় দশকের অভূতপূর্ব নৃশংসতা ফ্যাসিবাদের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছিল। জুলাই জাদুঘর জনগণের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, সাহস, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে চিরস্থায়ীভাবে ধারণ করার এক বিশেষ উদ্যোগ।

  • ৭১ ও ২৪-এর চেতনা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান ছিল অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতো চব্বিশের শহিদদেরও জাতি কোনোদিন ভুলবে না। এর পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানও এই জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে।

অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত ও বিচার নিশ্চিতকরণ

দেশে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু কেন্দ্রিক উত্তাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন:

“ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আজ কেউ কেউ অহেতুক নানা ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব করতে গিয়ে তারা নিজেদের অজান্তেই পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন।”

অপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শত বাধা সত্ত্বেও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চব্বিশের গণহত্যার প্রতিটি অপরাধীর বিচার সম্পন্ন করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এর কোনো বিকল্প নেই।

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, ভাতা ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও সরকারি পদক্ষেপের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান:

সুচিকিৎসা ও ভাতা: সরকারি হাসপাতালে সকল আহতদের বিনামূল্যে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জটিল অবস্থায় থাকা ৫০ জন জুলাই যোদ্ধাকে সরকারি খরচে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিয়মিত রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

৩১ দফা ও জুলাই সনদ: বাংলাদেশ আর কখনো কোনো পরাশক্তির তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। শহিদদের স্বপ্নের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ৩১ দফার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু করেছে সরকার।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে শক্ত অবস্থান বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top