উত্তরখানে ডিএনসিসি প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা
 

 

উত্তরখানে ডিএনসিসি প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা: গ্রেফতার ৩

ঢাকার উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকার অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

হামলার পরপরই পুলিশি অভিযানে হামলাকারী গার্মেন্টস মালিকপক্ষের একজনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর প্রথম দফায় হামলা

ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়:

  • সকালের ঘটনা: আজ সকালে রাজাবাড়ির এসটিএসে ডিএনসিসির কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর ‘নেপচুন অ্যাকসেসরিজ’ নামে একটি পোশাক তৈরি কারখানার মালিকপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

  • আহতের সংখ্যা: এ সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উত্তরার কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিদর্শনে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা

সকালের ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে সরেজমিনে রাজাবাড়ির এসটিএস পরিদর্শনে যান ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারী গার্মেন্টসের সংশ্লিষ্টদের কাছে সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জবাবদিহি চাইলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ঐ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই নেপচুন অ্যাকসেসরিজ মালিকপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আবারও অতর্কিত হামলা চালায়, যাতে আরও কয়েকজন আহত হন।

তিনজন গ্রেফতার ও হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া

হামলার ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ মালিকপক্ষের একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসি প্রশাসক ও সংসদ সদস্য কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা চিকিৎসাধীন আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে যান। এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান:

“রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও উচ্ছেদ কর্মকর্তা-প্রতিনিধিদের ওপর এই বর্বর হামলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসী ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হামলার বিষয়ে জানতে নেপচুন অ্যাকসেসরিজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top