সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান নানা আলোচনার মধ্যে সরকারের স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনো রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত বা ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সমুদ্রপথের কৌশলগত সুরক্ষা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ।
আজ রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন তিনি।
রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন কৌশলগত মাত্রা
সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন:
-
কৌশলগত ও শক্তিশালী সম্পর্ক: সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে একটি বিশেষ ও সুদৃঢ় কৌশলগত সম্পর্কে (Strategic Relationship) রূপ দেওয়া হচ্ছে।
-
পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা ও নৈতিক অবস্থান: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেকোনো বিশেষ প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়া হলে ধর্মীয় ভাবাবেগ, গভীর আত্মিক সম্পর্ক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে বাংলাদেশ সর্বদা ইতিবাচক সাড়া দেবে।
হুথি চ্যালেঞ্জ ও ইরানের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য
জোটে যোগ দেওয়ার প্রকৃত লক্ষ্য ও ইরানের প্রসঙ্গ নিয়ে হুমায়ুন কবির জানান:
“জোটে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরে হুথিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। আমরা নিয়মিতভাবে ইরানের সঙ্গেও কৌশলগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। কাজেই এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়াকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা সেখানে আঘাত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার কোনো যৌক্তিক সুযোগ নেই।”
বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যের সকল বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক ভারসাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে ডিপ্লোম্যাসি চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।







