গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি- মজিবুর রহমান মঞ্জু
 

 

“গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি, নতুন বাংলাদেশ গড়ায় বড় বাধা”: ফেনীতে মজিবুর রহমান মঞ্জু

রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে অরাজনৈতিক, অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার যেমন কাম্য নয়, তেমনি কারও কথার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা চালানো, চক্ষু উৎপাটন বা গাড়ি ভাঙচুর করাও চরম অনভিপ্রেত এবং ফ্যাসিবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু

আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ফেনী শহরের মিজান রোডস্থ জেলা এবি পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দলের ফেনী জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্যসচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

“জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়ভার ক্ষমতীনদেরই বেশি”

জুলাই বিপ্লবের সফলতা ও ব্যর্থতার নানা দিক তুলে ধরে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন:

“প্রত্যেক সংগ্রামেরই সফলতা ও ব্যর্থতার দুটি দিক থাকে। জুলাই অভ্যুত্থানেরও তা রয়েছে। সফলতার ভাগ যারা দাবি করবেন, ব্যর্থতার দায়ও তাঁদের নিতে হবে। জুলাই আন্দোলন যাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়ভার তাঁদের ওপরই সবচেয়ে বেশি।”

তিনি বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় তারেক রহমানকে যারা নির্যাতন করে পঙ্গু করেছিল কিংবা গালিগালাজ করেছিল, বিএনপি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল। কিন্তু যারা রাজপথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছে, আজ তাদের গঠনমূলক বিরোধিতাও বিএনপি সহ্য করতে পারছে না। তারা সহযোগীদের প্রতি নিষ্ঠুর ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছে, যা অতীতের রাজনৈতিক ভুলেরই পুনরাবৃত্তি।

সহিংসতা ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির আহ্বান

সভায় বক্তব্য রাখা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মোহাইমিন তাজিম: “প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণেই এক জনপদের মানুষ হয়েও ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আমাদের ওপর মুষলধারে গুলি চালানো হয়েছিল। আমরা আর বাংলাদেশে এই হিংসার রাজনীতি চাই না।”

  • ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুন: “জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের শাসন চালিয়ে যাওয়া খুনি শেখ হাসিনা নির্বিচারে আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল। এই জুলাইয়ের আত্মত্যাগই ফেনী থেকে নিজাম হাজারীর মতো কলঙ্কময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে ফেনীর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন:

  • মুফতি আব্দুল হান্নান (আমির, ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামী)

  • শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক (সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি ফেনী)

  • সোহরাব হোসেন শাকিল (আহ্বায়ক, জাতীয় ছাত্রশক্তি ফেনী জেলা)

  • মোঃ সাইফ উদ্দিন (সভাপতি, জাগপা ফেনী জেলা)

  • রশিদ মজুমদার (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদল) এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ কাউসার ও শ্রাবণের পিতাগণ।

এছাড়াও এবি পার্টির স্থানীয় ও অঙ্গসংগঠনের যুব ও ছাত্রনেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top