রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির সার্বিক প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে কঠোর কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আপিল বিবেচনা ও তদন্ত কমিটির সন্তোষজনক প্রতিবেদন
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল আবেদন পর্যালোচনা করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য দপ্তরের দাখিল করা বিস্তারিত সরেজমিন প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংশোধনী পদক্ষেপে আস্থা রেখে পূর্বের লাইসেন্স বাতিলের আদেশটি বাতিল করা হলো।
কার্যক্রম পরিচালনার ৩টি প্রধান শর্ত
হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা চালুর অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত আরোপ করেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ:
-
১. মেডিকেল অর্ডিন্যান্স অনুসরণ: ‘দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর সংশ্লিষ্ট সকল ধারা ও প্রবিধান নিখুঁতভাবে মেনে চলতে হবে।
-
২. প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ: লাইসেন্সের শর্তাবলী পূরণ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ডিউটি চিকিৎসক (Duty Doctor) এবং প্রয়োজনীয় নার্সিং স্টাফ অবিলম্বে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে হবে।
-
৩. আইনানুগ ব্যবস্থা: ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো গাফিলতি বা লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন হলে সরকার কোনো পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যতিরেকেই আইন অনুযায়ী পুনরায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আদেশের অনুলিপি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালকের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (DGHS) সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে তাৎক্ষণিক অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট: ৬ নবজাতকের মৃত্যু বিতর্ক
উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (NICU) টানা ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ও ব্যাপক আলোচনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে আপিল ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফের কার্যক্রম শুরু করার পথ সুগম হলো।







