চীন, জাপান ও আমেরিকাসহ বিশ্বমঞ্চ এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রস্তুত
 

 

চীন, জাপান ও আমেরিকাসহ বিশ্বমঞ্চ এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রস্তুত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরাশক্তি দেশগুলো এখন বাংলাদেশে বিশাল অংকে নতুন বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির রূপরেখা’ শীর্ষক এক বিশেষ সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিডা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জোর তৎপরতা

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাময় বাজার ব্যবহারে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেছেন।

  • আন্তর্জাতিক আগ্রহ: একাধিক পরাশক্তি দেশ ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, হাই-টেক ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • বিডা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া কোনো নিদিষ্ট চাঁদ দেখা বা দিনক্ষণের বিষয় নয়, এটি একটি গতিশীল দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ যা ইতোমধ্যে দ্রুত বেগবান হয়েছে।

পঙ্গু অর্থনীতি পুনর্গঠন ও সরকারের অগ্রাধিকার খাত

বিগত সরকারের অর্থনৈতিক দুর্নীতির ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন:

“আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি পঙ্গু অর্থনীতি পেয়েছি। গত ১৭ বছরে যেভাবে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করা হয়েছে, পুঁজিবাজার ধ্বংস করা হয়েছে, দেশের পুরো সিস্টেমকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে—সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধার করে একটি গতিশীল ও টেকসই রূপ দেওয়ার জন্য যা যা সংস্কার প্রয়োজন, সরকার এখন প্রতিটি নীতি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করছে।”

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ খাতসমূহ:

  • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত: টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গঠনে বৈদেশিক বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • টেক্সটাইল ও কৃষিভিত্তিক শিল্প: তৈরি পোশাক ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ (Agro-processing) খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ।

  • স্পোর্টস ডিপ্রোমেসি ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কুটির শিল্প, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলা (Sports Diplomacy)-কে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা।

  • ব্লু-ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি): ইউরোপীয় দেশগুলোকে সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্লু-ইকোনমিতে বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top