জাহাজবাড়ির ৯ তরুণ হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন
 

 

কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণকে হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আবেদন

রাজধানীর কল্যাণপুরে আলোচিত ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে কথিত জঙ্গি নাটকের নামে নয়জন তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের (Formal Charge Framing) আবেদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ও আবেদন জমা দেওয়া হয়। প্যানেলের অন্য দুই বিচারিক সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের শুনানি ও পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ

আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে মূল শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর ও সিনিয়র এডভোকেট গাজী এমএইচ তামীম। তিনি কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে পরিচালিত বিতর্কিত অপারেশনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন।

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রস্তুতি ও পর্যালোচনার জন্য সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল সময় আবেদন মঞ্জুর করেন এবং চার্জগঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালে শহীদুল ও আছাদুজ্জামানকে হাজির, পলাতক শেখ হাসিনাসহ ৬ জন

আজ শুনানিকালে এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই জ্যেষ্ঠ আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তারা হলেন:

  • এ কে এম শহীদুল হক — বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

  • আছাদুজ্জামান মিয়া — ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার।

অন্যদিকে, মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ বর্তমানে পলাতক থাকা অপর ছয়জন আসামি হলেন:

১. শেখ হাসিনা — সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি।

২. শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান — ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার।

৩. মনিরুল ইসলাম — ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান।

৪. কৃষ্ণ পদ রায় — ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম)।

৫. আব্দুল বাতেন — ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি)।

৬. অপর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

ঘটনার পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘জাহাজবাড়ি’ নামক ভবনে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। তৎকালীন পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভবনটিকে জঙ্গি আস্তানা দাবি করে সেখানে ৯ তরুণকে গুলিতে হত্যা করা হয়। তবে পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতার বিপ্লব-উত্তর তদন্তে উঠে আসে যে, রাজপথ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে এই অভিযানকে এক ধরনের কৃত্রিম নাটক বানিয়ে অনায়াসে ৯ জন তরুণকে হত্যা করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top