সারা দেশে হামের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি; মারা যাওয়া ব্যক্তিটি হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার খতিয়ান: নতুন শনাক্ত ১৪০ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ১৪০ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম (Measles) শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ৮৭৩ জনের শরীরে হামের তীব্র উপসর্গ দেখা গেছে।
চার মাসে মোট মৃত্যু ৭৮০ জন
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১৭ জুলাই পর্যন্ত চার মাসেরও বেশি সময়ে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮০ জনে।
মৃত্যুর চুলচেরা বিশ্লেষণ:
-
হামের উপসর্গে মৃত্যু: ৬৮৫ জন (যাদের ল্যাব পরীক্ষা ছাড়াই হামের স্পষ্ট লক্ষণ বা জটিলতা নিয়ে মৃত্যু হয়েছে)।
-
নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ৯৫ জন (যাদের ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল)।
হাসপাতালে ভর্তির হার ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে:
-
সন্দেহভাজন হাম রোগী: মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ১১ জন।
-
নিশ্চিত হাম আক্রান্ত: মোট ১৪ হাজার ২৪৪ জন (ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত)।
-
হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৬০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
-
সুস্থ হয়ে বাড়ি প্রত্যাবর্তন: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৯৫ হাজার ৩১ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং এটি পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিস্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। জ্বর ও শরীরে লালচে গুটি দেখা দিলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (MR) টিকা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।







