চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠকের পরদিনই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা বাস্তবায়ন শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। টানা বর্ষণ ও প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চরম সংকটে থাকা পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবন্দি ও দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি আমির ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ
উপজেলার বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে পানিবন্দি মানুষের হাতে ত্রাণ ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন:
-
আল্লামা সাজিদুর রহমান (মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ)
-
আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দিন (নায়েবে আমির, হেফাজত ও মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা)
-
মাওলানা হাফেজ খোবাইব বিন তৈয়ব (মুহতামিম, জিরি মাদরাসা ও সাধারণ সম্পাদক, হেফাজত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা)
-
মাওলানা মুফতি ইকরাম হোসাইন অদুদী (মুহতামিম, জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া)
-
মাওলানা নুরুল হক সুজিশ (সভাপতি, হেফাজত বাঁশখালী উপজেলা)
-
মাওলানা মহিউদ্দিন খান জসিম (সাধারণ সম্পাদক, হেফাজত বাঁশখালী উপজেলা)
-
মাওলানা হাফিজুর রহমান (সভাপতি, বাঁশখালী পৌরসভা হেফাজত)
-
মাওলানা জুনাইদুর রশিদ শওকী (অর্থ সম্পাদক, বাঁশখালী উপজেলা)
-
ক্বারী মাওলানা ইমরান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)
আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিতরণ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোগে এবং ‘আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব ফাউন্ডেশন’-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাঁশখালী ও কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মোট ৭টি প্রত্যন্ত গ্রামে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণকৃত এলাকাগুলোর তালিকা:
| উপজেলার নাম | ইউনিয়ন | নির্দিষ্ট গ্রাম / ওয়ার্ড |
| বাঁশখালী | বাহারছড়া | ইলশা এবং বাঁশখালা গ্রাম |
| সরল | ১, ২ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড | |
| ভাদালিয়া | মিনজিতলা গ্রাম | |
| পেকুয়া | পেকুয়া সদর | বিলাছুরা, নন্দীপাড়া এবং মেহেরনামা গ্রাম |
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে হেফাজতের একঝাঁক তরুণ ও উৎসর্গীকৃত স্বেচ্ছাসেবক দিনব্যাপী নৌকা ও ভেলা নিয়ে বাঁশখালীর বিভিন্ন প্লাবিত ইউনিয়নে গিয়ে পানিবন্দি পরিবারের দোরগোড়ায় ত্রাণ ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেন।
“ত্রাণেই শেষ নয়, পুনর্বাসনেও কাজ করবে হেফাজত”
ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত বন্যার্তদের সান্ত্বনা দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন:
“প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারানো মজলুম ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের সংগঠন নয়; এটি সবসময় মজলুম, ডুকরে কেঁদে ওঠা অসহায় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দায়িত্ব শুধু কয়েক দিনের শুকনো বা জরুরি খাদ্য সহায়তা দিয়েই শেষ হয়ে যাবে না। বন্যাপরবর্তী সময়ে বাড়িঘর ও কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমেও আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কাজ করার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। আমি সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান, সমাজসেবী ও দানশীল ব্যক্তিদের এই কঠিন মানবিক সংকটে সাধ্যমতো দুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।”
বাঁশখালীর সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের উপর্যুপরি রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরী নদী থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, শীলকূপ, গণ্ডামারা ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি নিচু অঞ্চল সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং এলাকায় খাবার পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই কঠিন মুহূর্তে হেফাজতের এই তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।







