ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আসরের নামাজের বিরতির পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যথাসময়ে সংসদ কক্ষে উপস্থিত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রীদের এমন অনুপস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন খোদ ডেপুটি স্পিকার।
আসরের নামাজের বিরতির পর ফাঁকা মন্ত্রীদের আসন
আজকের দিনের পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরের পর্বটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। আজকের দিনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব নির্ধারিত ছিল।
সংসদ কক্ষের উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অধিবেশনের প্রথমার্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির যথাসময়ে নিজ নিজ আসনে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মৌখিক ও লিখিত জবাবও দিচ্ছিলেন।
সংসদ চলাকালীন একপর্যায়ে আসরের নামাজের সময় হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন সাময়িক বিরতি দেন। বিরতিতে যাওয়ার আগে তিনি হাউসের সদস্যদের জানান, আসরের নামাজের বিরতি শেষ হওয়ার পর প্রশ্নোত্তরের অবশিষ্ট অংশটি পুনরায় চালু করা হবে।
ডেপুটি স্পিকারের চরম অসন্তোষ ও সমাপ্তি ঘোষণা
নির্ধারিত বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু এ সময় সংসদ কক্ষের সরকারি বেঞ্চের (মন্ত্রীদের আসন) দিকে তাকিয়ে দেখা যায়, যেসব মন্ত্রণালয়ের প্রশ্ন অবশিষ্ট ছিল, সেইসব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কেউই সংসদকক্ষে উপস্থিত নেই।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মন্ত্রীদের জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসন গ্রহণ না করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে মাইকে বলেন:
“এখন যেহেতু মাননীয় মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর পর্বের অবশিষ্ট অংশ চলার কথা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে যেসব মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য প্রশ্ন ছিল, তাঁরা কেউ এই মুহূর্তে হাউসে উপস্থিত নেই। যে কারণে আমরা আজকের দিনের প্রশ্ন-উত্তর পর্বটা এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করছি।”
কার্যসূচি শেষ হতেই মন্ত্রীদের প্রবেশ
ডেপুটি স্পিকারের এই কঠোর ঘোষণার মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর পর্বটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে পরবর্তী কার্যসূচিতে চলে যায় সংসদ। তবে চরম নাটকীয়তার বিষয় হলো, প্রশ্নোত্তর পর্ব সমাপ্ত ঘোষণার পর যখন দিনের পরবর্তী নিয়মিত আইন প্রণয়ন বা সাধারণ কার্যসূচি শুরু হয়, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একে একে তড়িঘড়ি করে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে দেখা যায়। কিন্তু ততক্ষণে আইন অনুযায়ী আজকের দিনের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় চিরতরে পার হয়ে যাওয়ায় তা আর পুনরায় চালুর সুযোগ ছিল না।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, আইনসভার সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া মন্ত্রীদের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। নতুন সরকারের চলমান প্রথম বাজেট অধিবেশনেই মন্ত্রীদের এমন অপেশাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে সংসদ লবি ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।







