জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে নতুন সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত আনতে বিশ্বের প্রধান ১০টি দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
নতুন ২০编制২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন আজ বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে সাম্প্রতিক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলাপকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা জনগণের দাবি’
ভারতে অবস্থানরত দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন:
“এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট নতুন কোনো আপডেট নেই, তবে পুরো বিষয়টি আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যিনি নিজ দেশের মানুষের ওপর চরম অন্যায় ও অপরাধ করে অন্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বা অবস্থানে আছেন, তাঁকে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সাজার মুখোমুখি করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশের কোটি কোটি জনগণও এটাই মনে-প্রাণে চায় এবং জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাধীন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি সচল রাখা হয়েছে।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১০ দেশে বিশেষ অনুরোধ
গত ১৭ বছরে দেশ থেকে লুণ্ঠিত ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই ১০টি দেশের সরকারকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
শামা ওবায়েদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে জানিয়েছেন যে, অর্থ পাচারের সাথে জড়িত দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আইনি চুক্তি জোরদার করা হচ্ছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়; এটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ (Time-consuming) ব্যাপার।”
তিনি আরও যোগ করেন:
“আন্তর্জাতিক স্তরে যেসব দেশের সাথে আমাদের ব্যাংকিং ও অপরাধী সংক্রান্ত আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে অনেকখানি এগিয়েছি। বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাচার হওয়া রক্তঘাম করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি এখন সঠিক ট্র্যাকে চলমান রয়েছে।”






