ডিসেম্বরেই খুলছে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল- প্রধানমন্ত্রী
 

 

ডিসেম্বরেই খুলছে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল: প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাইকার মেগা বৈঠক

দেশের বিমান যোগাযোগ খাতের মেগা প্রজেক্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক ‘তৃতীয় টার্মিনাল’ (Third Terminal) আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিশেষ দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকারে মিলিত হলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

৩১২ থেকে ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত হচ্ছে জাপানি জ্বালানি সহায়তা

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং বিদ্যুৎ খাতের টেকসই সংস্কারে জাপানের পক্ষ থেকে এক বিশাল সুখবর দেওয়া হয়েছে। চলমান সংকটের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ বাজেট ও কারিগরি সহায়তা একলাফে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) উন্নীত করার বিষয়ে টোকিও সম্পূর্ণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এর ফলে দেশের আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ব্যাকলগ ও ডলারের চাপ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এছাড়া বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান অন্যান্য মেগা প্রকল্প—যেমন মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এমআরটি (MRT) বা মেট্রোরেল লাইনসমূহের ভৌত অবকাঠামোগত কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কৌশলগত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ৫টি আধুনিক প্যাট্রোল বোট দিচ্ছে টোকিও

প্রতিরক্ষা কূটনীতি ও বঙ্গোপসাগরের সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy) রক্ষায় বৈঠকে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে জাপানি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর (Bangladesh Navy) সক্ষমতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ৫টি অত্যাধুনিক প্যাট্রোল বোট (Patrol Boat / যুদ্ধজাহাজ) প্রদানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে টোকিও।

পাশাপাশি, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হওয়া ‘বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (EPA)-এর চূড়ান্ত রূপরেখা ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় কূটনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা ‘রোহিঙ্গা সংকট’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ও কূটনৈতিক পরিসরে জাপানকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

বৈঠক শেষে জাপানের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে টোকিও সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উভয় দেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা

দুই দেশের মধ্যকার এই হাই-প্রোফাইল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টিম উপস্থিত ছিল:

বাংলাদেশ পক্ষে:

  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী (এবং জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি) ড. খলিলুর রহমান।

  • অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

  • প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

  • প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।

জাপান পক্ষে:

  • ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

  • জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো।

  • জাইকা (JICA)-এর বৈশ্বিক প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।

  • জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top