জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, যাচ্ছেন জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না বা তাঁর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) ও কিছু ইউটিউব চ্যানেলে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা।

প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার প্রকাশ্যে এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা কার্যকর প্রকাশ্য ভিসা ব্লকেজ রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তাঁর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক বাধা নেই।

ইউটিউবারদের অপপ্রচারের উৎস: একটি পুরোনো ‘ফাঁস হওয়া বার্তা’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের একটি অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক বার্তা (ক্যাবল) উইকিলিকসে ফাঁস হয়েছিল। বহু বছর আগের সেই বার্তায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনকে একটি ‘অভ্যন্তরীণ সুপারিশ’ পাঠিয়েছিলেন, যাতে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ সুপারিশ আর কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক ‘সরকারি নীতি’ বা ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ এক বিষয় নয়। সেই পুরোনো ও অকার্যকর বার্তাকে পুঁজি করেই একশ্রেণির ভুঁইফোড় ইউটিউবার ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

মার্কিন দূতাবাসের অবস্থান ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা

এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য বা নির্দেশনা নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রকাশ্য এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাষ্ট্রদূতদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকই প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর ওপর কোনো ব্যক্তিগত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেই।

৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।

  • সভাপতি পদে বাংলাদেশ: গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে ১৯৩টি দেশের প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন

  • ভোটের ব্যবধান: গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৯টি দেশের ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।

কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, যে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশ্বমঞ্চে সভাপতিত্ব করছেন, সেই দেশের সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে অসম্ভব ও অবাস্তব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়া তাঁর স্বাভাবিক কূটনৈতিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় রীতির অংশ।

সুতরাং, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ (Views) বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ছড়ানো এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও তথ্যসন্ত্রাস মাত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top