“ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।”—পবিত্র আশুরা (১০ মহররম) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি বিবৃতিতে এই বাণী প্রকাশ করা হয়।
সত্য ও ন্যায়ের অবিনাশী প্রতীক কারবালা
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন:
“ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে। কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।
জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রেরণার উৎস
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে অমূল্য শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম প্রেরণার উৎস।
আশুরার মহান চেতনাকে বুকে ধারণ করে সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।”
ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও সমবেদনা
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তাঁর পরিবারের সকল সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
এই শোকাবহ দিনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।







