“বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশকে কোনোভাবেই দিল্লির কৃতদাস হতে দেওয়া হবে না এবং এ দেশের মুক্তিকামী জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।”—বিগত গণহত্যাকারী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের নানামুখী উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উসকানির বিরুদ্ধে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে (২৩ জুন) কেন্দ্র করে দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের অন্তর্ঘাতমূলক ও উসকানিমূলক তৎপরতার প্রতিবাদে আজ সকালে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সরাসরি নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে ভিআইপি রোড ধরে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
পাচারের টাকা দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/নির্বাচিত সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন:
“বাংলাদেশে আর কোনোদিন পতিত ফ্যাসিবাদকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। বিগত ১৬ বছরে ওনারা দেশ থেকে যে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, সেই অবৈধ ও পাচার করা টাকা ডলারে রূপান্তর করে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি আবারও মাতৃভূমিকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু এ দেশের ছাত্র-জনতা তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেবে।”
তিনি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যদি দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করে, তবে এ দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই তা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।”
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকার আহ্বান জানান।







