বাজেটের পর এই প্রথম জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি- প্রধানমন্ত্রী
 

 

বাজেটের পর এই প্রথম জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি, এটি জনগণের বাজেট: কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টানা কয়েক বছর বাজেট ঘোষণার পরদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার তা ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। যে বাজেট পেশ করলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খরচের ওপর চাপ পড়ে না, জিনিসের দাম বাড়ে না—সেই বাজেটই প্রকৃত অর্থে জনগণের পক্ষের বাজেট।”

শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসা ও ওষুধের দাম কমবে, ডায়ালাইসিসে বাঁচবে ১ হাজার টাকা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষকে দেওয়া বড় বড় কর ছাড়ের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

  • কিডনি ডায়ালাইসিস: কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর থেকে সব ধরনের কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে একজন রোগীর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে।

  • হার্টের চিকিৎসা: হৃদরোগীদের হার্টের বাইপাস সার্জারি এবং রিং পরানো বা স্টেন্টিংয়ের খরচ এক ধাক্কায় প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে। আগে যেখানে এই চিকিৎসায় সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো, ট্যাক্স কমানোর ফলে তা এখন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় নেমে আসবে।

  • চোখের লেন্স: প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের কল্যাণে চোখের লেন্সের ওপর থেকেও কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিরোধীদের সমালোচনা: ‘তারা কি মদ-সিগারেটের কর বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছে?’

বাজেটের পর কিছু রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, কিছু রাজনৈতিক দল এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘গণবিরোধী’ বলছে। বিএনপি সরকার মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও নিত্যপণ্যের ওপর ট্যাক্স কমিয়েছে। আর ট্যাক্স বাড়িয়েছে কিসের ওপর? মদের ওপর, সিগারেটের ওপর।”

বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এখন যারা ‘মানি না, মানব না’ বলে রাজপথে মিছিল করছে, তারা কি তবে মদ আর সিগারেটের ওপর কেন ট্যাক্স বাড়ানো হলো—সেই দুঃখে রাজপথে নেমেছে? যারা মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানায়, তারা কখনো জনগণের জন্য রাজনীতি করতে পারে না। এরা জনগণের বন্ধু নয়।”

বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “এরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে গিয়ে বড় বড় ‘টিকিট’ বিক্রি করতে চেয়েছিল। জনগণকে বিভ্রান্ত করে শুধু ভোট নিতে চেয়েছিল। এখন আর টিকিটের কথা বলে না, কারণ ওই টিকিট দেওয়ার মালিক বা ক্ষমতা এখন আর তাদের হাতে নেই।”

কক্সবাজারে দিনব্যাপী উন্নয়ন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি চকরিয়া ও পেকুয়া অঞ্চলে একাধিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন:

১. পাতলী খাল পুনঃখনন: দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে তিনি স্থানীয় পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২. দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ: “আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

৩. নতুন পৌরসভা ও উপজেলা: পেকুয়ায় নতুন পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

চকরিয়া পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার সন্তান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top