বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম চিরকাল এক অনন্য ও কালজয়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘ছবির গল্প’ প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির স্মরণে ‘দেশনেত্রী’ শীর্ষক বিশেষ বর্ষপঞ্জির (ক্যালেন্ডার) মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট ও স্মৃতিচারণ:
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ছবির গল্পের উপদেষ্টা সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্পিকার বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মহাপ্রয়াণে কোটি মানুষের যে অশ্রুবিসর্জন, তা-ই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনমানুষের প্রিয় নেত্রী ছিলেন।”
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনে। আর এই মহান ঐতিহাসিক ঘোষণার নেপথ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়াকে আজীবন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
জিয়া পরিবারের অবদান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, এমপি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়াই দেশে প্রথম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। জিয়া পরিবারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকেই রাজনীতিতে নানা হিসেব-নিকেশ করে চলেন, কিন্তু জিয়া পরিবারের প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য নিবেদিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রতীক।”
বর্ষপঞ্জি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী:
অনুষ্ঠানে ‘ছবির গল্প: সবার আগে দেশপ্রেম’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিগত স্বৈরাচারী ও বাকশালী সরকারের নানা অপপ্রচারের জবাবে এবং সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশের প্রাণ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্রকাশিত ‘দেশনেত্রী’ বর্ষপঞ্জিটিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী ও ছবির গল্পের প্রতিষ্ঠাতা খালেদ হোসেন পরাগের ক্যামেরায় ধারণকৃত দুর্লভ ছবি এবং ছবির গল্প টিমের লেখনীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের বিশেষ ১২টি দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্পিকার অনুষ্ঠান শেষে এই স্মারক বর্ষপঞ্জির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং ছবির গল্পের সমন্বয়ক সাদমান সাকিব। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর, আরিফা সুলতানা রুমা, দীপিকা বিনতে হোসাইনসহ সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যবৃন্দ, ছবির গল্প টিমের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







