পল্লবীর রেশ কাটতেই বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ; বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ - Peoples News
 

 

পল্লবীর রেশ কাটতেই বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ; বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ চলার মধ্যেই চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় মাত্র তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) দুপুরে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ ভবনে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ ও গণ-অসন্তোষ:

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং বাবা পেশায় রিকশাচালক। দুপুরে মা-বাবা দুজনেই কর্মক্ষেত্রে থাকায় শিশুটি বাসায় একা ঘুমিয়ে ছিল। এই সুযোগে পাশের একটি দোকানের এক কর্মচারী (৩২) ঘরে ঢুকে শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে আশপাশের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা অভিযুক্ত যুবককে ধরে গণপিটুনি এড়াতে নিকটবর্তী একটি মাদ্রাসার গেটে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা না রেখে অভিযুক্তকে সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

রণক্ষেত্রে পরিণত বাকলিয়া, পুলিশের অ্যাকশন:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ তালা ভেঙে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বাধা দেয়। শুরু হয় পুলিশ-জনতা তুমুল হাতাহাতি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দফায় দফায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হলেও জনতার প্রতিরোধের মুখে পুলিশের অন্তত তিন থেকে চারটি গাড়ি পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ জনতার হাতে ছিল।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা নস্যাৎ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই অ্যাকশনে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক:

এদিকে ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে পুরো বাকলিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top