জ্বালানি নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলার অনুমোদন
 

 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের আরও ৩৫ কোটি ডলার অনুমোদন

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। রোববার (১৭ মে ২০২৬) বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। মূলত ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এই অর্থায়নের ফলে বাংলাদেশ ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

অর্থায়নের প্রভাব ও সুবিধাসমূহ:

  • পেট্রোবাংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত এই অর্থায়নের মাধ্যমে পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা বাড়ানো হবে। এতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

  • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।

  • নিরাপদ পরিশোধ ব্যবস্থা: আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) গ্যারান্টি সমর্থিত স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধ নিরাপদ করা হবে।

উল্লেখ্য, ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন করেছিল। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এই বাড়তি অর্থায়ন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা প্রদান করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top