মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার জানান দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়। সব মিলিয়ে এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ২৬৮ রান। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। এই জয়ের নেপথ্যে কারিগর ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর ‘ম্যাজিকাল’ বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাক ব্যাটাররা। ৪০ রান খরচ করে একাই ৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা স্পেল। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। নাহিদ রানাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ; তারা প্রত্যেকেই দখল করেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১টি উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ করার পর পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান তুলে শক্ত লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৭ এবং মুমিনুল হকের ৫৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে চড়ে বাংলাদেশ ২৪০ রান সংগ্রহ করলে পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড়ায়। পাকিস্তানের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ফজল ৬৬ এবং সালমান ২৬ রান করলেও তা হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের গৌরবও অর্জন করল টাইগাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
-
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ ডিক্লে. (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬)
-
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২, তাসকিন ২/২৯)
-
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।







