বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের সরকার ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপির সাম্প্রতিক চীন সফর পরবর্তী এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এবং শুক্রবার (৮ মে) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি এই বিশেষ আগ্রহ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন যে, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ছাত্রী হল নির্মাণসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়াও সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘লুক ইস্ট পলিসি’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পূর্বসূরিদের দেখানো পথ অনুসরণ করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবেন।
জনসংযোগ ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং বছর শেষে এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুশাসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।







