যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আর্থিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। একদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের হিসাব সামনে এনেছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। হার্স্ট জানান, এই ব্যয়ের সিংহভাগই খরচ হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের প্রতিস্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজেও বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট এই ব্যয়ের হিসাবটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন কংগ্রেস ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যালোচনা করছে। হাউস প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ এই স্বচ্ছতার প্রশংসা করে জানান, আইনপ্রণেতারা অনেকদিন ধরেই এই সুনির্দিষ্ট তথ্যটির অপেক্ষায় ছিলেন।
ট্রাম্পের অবস্থান ও তেলের বাজারে অস্থিরতা:
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে ট্রাম্প অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার পর এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬.৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সামরিক ব্যয়ের এই বিশাল অংক এবং জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করছে যে, এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের সংশোধিত প্রস্তাবের ওপরই এখন বৈশ্বিক তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে।







