আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ চমক’ নিয়ে প্রস্তুত ইরান; ট্রাম্পের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের জন্য কেবল প্রস্তুতই নয়, বরং শত্রুপক্ষকে মোকাবিলায় তাদের ভাণ্ডারে জমা রয়েছে বিশেষ কিছু ‘সারপ্রাইজ’ বা রণকৌশলগত চমক। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ একটি উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই সতর্কবার্তা প্রচার করেছে।

ইরানের সামরিক সূত্রটি দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে আকাশপথ, তেলের বাজার এবং বিশ্ব শেয়ারবাজার—সবক্ষেত্রেই পাল্টা আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট ‘অপারেশনাল প্ল্যান’ ইরানের হাতে রয়েছে। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, আসন্ন দিনগুলোতে ইরান এমন কিছু মারণাস্ত্র বা কৌশলের প্রয়োগ ঘটাবে যা যুদ্ধের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা:

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে সামরিক বিকল্পগুলোর ব্যর্থতা আঁচ করতে পেরেছেন। তেহরান বলছে, ওয়াশিংটনের সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ এখন শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে ট্রাম্প রণক্ষেত্রের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ‘মিডিয়া যুদ্ধে’ বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। ইরান সতর্ক করে বলেছে যে, ওয়াশিংটন মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে তাদের কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করলেও ইরান মাঠ পর্যায়ে তাদের শক্তি প্রদর্শনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টার পর থেকেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই ত্রিমুখী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান নিয়মিতভাবে ড্রোন ও মিসাইল হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই নতুন ‘সারপ্রাইজ’-এর ঘোষণা অঞ্চলটিতে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top