মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পৌনে দুই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেল আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই জরুরি আমদানির সিদ্ধান্ত। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) এই তেল কেনা হবে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন রয়েছে।
আমদানির বিস্তারিত ও উৎস:
ক্রয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও-এর কাছ থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন কেনা হবে। এছাড়া আর্চার এনার্জি এলএলসি-এর কাছ থেকে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকায় আরও ১ লাখ মেট্রিক টন সালফারযুক্ত ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি প্রক্রিয়ায় এই জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন:
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার একটি বড় প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবও বৈঠকে পাশ হয়েছে। ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’ প্রকল্পের জন্য জার্মানির ফিখ্টনার জিএমবিএইচ অ্যান্ড কো. কেজি-কে ৯৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পরবর্তী ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য ২১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ কোটি পিস হেসিয়ান বস্তা কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।







