মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। গতিদানব নাহিদ রানার ‘ফাইভ স্টার’ পারফরম্যান্স এবং তানজিদ-শান্তর অনবদ্য ব্যাটিংয়ে কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফিরল।
সোমবার মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। নিজের ১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের (ফাইফার) দেখা পান নাহিদ। তার গতির ঝড়ে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস। ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ওপেনার নিক কেলি সর্বোচ্চ ৮৩ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শরিফুল ইসলাম ৩২ রানে নেন ২ উইকেট।
তানজিদ-শান্তর দাপট:
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ১১০ রানের বিশাল জুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তানজিদ ৭৬ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। ফিফটি পূর্ণ করার পর নাজমুল হোসেন শান্ত ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়লে বাকি কাজটুকু সারেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৮৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
বল হাতে থাকার হিসেবে এটি কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়ানডে জয়। এর আগে ২০২৩ সালে নেপিয়ারে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছিল টাইগাররা। মিরপুরের ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা। আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের ভাগ্যনির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড
নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/১০ (৪৮.৪ ওভার); কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২।
বাংলাদেশ: ১৯৯/৪ (৩৫.৩ ওভার); তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০ (রিটায়ার্ড হার্ট), হৃদয় ৩০*; লেনক্স ২/৩৬।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।







