যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘দাসখত’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।
‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’ আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এমন কিছু চুক্তি করেছে যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু করে দেবে। তিনি এই চুক্তিকে ঔপনিবেশিক আমলের শোষণের সঙ্গে তুলনা করেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো:
-
লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে: তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি বহাল থাকলে দেশীয় শিল্প ধ্বংস হবে এবং লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ একটি ‘চোখ-কান বন্ধ’ জাতিতে পরিণত হবে।
-
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সর্বনাশ’ ও শ্বেতপত্র: অন্তর্বর্তী সরকার স্টারলিংক, এলএনজি আমদানি ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যেসব ‘সর্বনাশা’ চুক্তি করেছে, সেগুলোর তদন্তে শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
-
সংসদকে ‘ডিজওন’ করতে হবে: বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই চুক্তির দায়ভার নেওয়া যাবে না। সংসদকে সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান বা ‘ডিজওন’ করতে হবে।
-
সব আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান: আনু মুহাম্মদ স্পষ্টভাবে বলেন, “ওয়াশিংটন, দিল্লি, ইসলামাবাদ, বেইজিং বা মস্কো—কোনো আধিপত্যই আমরা মানব না। বাংলাদেশকে নিজের মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়াতে হবে।”
‘কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি’ — মাহা মির্জা:
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা এই চুক্তিকে ‘জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে গাদ্দারি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “চুক্তির ধারাগুলো পড়ে আমি কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি। জ্বালানি খাত ও স্থানীয় শিল্পসহ সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” এই চুক্তি বাতিল না হলে কৃষিখাতেও ভয়াবহ বিপর্যয় নামবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এসব দীর্ঘমেয়াদী আত্মঘাতী চুক্তি করেছে। আগামী ২৫ এপ্রিল এই চুক্তির ওপর একটি পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।







