প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা আগামীকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন সরকার গঠনের পর এটিই হবে একনেকের প্রথম বৈঠক, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় এই সভায় উন্নয়ন দর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।
নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এবার জৌলুস বা চমকের চেয়ে বাস্তবধর্মী ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে ‘বিলাসী’ বা কম গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রকল্প অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় বাজেটের সুফল পৌঁছে দেওয়াই হবে এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
১৮ প্রকল্প ও ব্যয় পরিকল্পনা:
আগামীকালের সভায় মোট ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ১৮টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯টি সম্পূর্ণ নতুন এবং বাকিগুলো সংশোধিত প্রকল্প। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক নিবাস নির্মাণ।
-
শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে ৮টি বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন।
-
সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ।
-
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (২য় পর্যায়)।
-
ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ এবং বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ।
ব্যয় সংকোচন ও কঠোর মনিটরিং:
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বর্তমানে কঠোর ‘ব্যয় সংকোচন নীতি’ অনুসরণ করছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে এমন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র উৎপাদনশীল ও জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
একনেক কমিটির নতুন কাঠামো:
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিকল্প সভাপতি করে ৯ সদস্যের একনেক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনা), সালাহ উদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র), খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (শিল্প, বস্ত্র ও পাট), মো. আসাদুজ্জামান (আইন), সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল (স্বাস্থ্য) এবং শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু)।







