মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্তবর্তী লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এক প্রলয়ংকরী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভয়াবহতায় নিহতের সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়ে এখন ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। ইরান, ইসরাইল, লেবানন এবং সৌদি আরব—প্রতিটি প্রান্তেই এখন বারুদের গন্ধ আর ধ্বংসের হাহাকার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বাহিনীর মুহুর্মুহু হামলায় ইরান এখন এক ধ্বংসস্তূপ। বিশেষ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বা স্টেট ব্রডকাস্টার ভবনে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের লক্ষ্য পরিষ্কার করে জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন থামবে না। ট্রাম্পের মতে, এই সামরিক অভিযান আরও অন্তত চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম কোম্পানি তাদের দুটি স্থাপনায় হামলার পর এলএনজি (LNG) উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তবে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) একটি ঘোষণায়। তারা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পারাপারের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাতে সরাসরি হামলা চালানো হবে।
ইসরাইল কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা লেবাননের দক্ষিণে নতুন করে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলার তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আইডিএফ (IDF)। অন্যদিকে, যুদ্ধের আঁচ লেগেছে সৌদি আরবেও। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। যদিও এতে কেবল সামান্য আগুন এবং অল্প ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে সৌদি আরবের মতো সুরক্ষিত জায়গায় এই হামলা যুদ্ধের ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা পশ্চিম জেরুজালেম, তেল আবিব এবং ইলাত শহরের আকাশে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তা সত্ত্বেও শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংঘাতের আশঙ্কাজনক দিক
-
বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
-
মানবিক বিপর্যয়: নিহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব দ্রুতই এটি শতকের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
-
অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ: ট্রাম্পের ‘চার সপ্তাহ’ সময়সীমা এবং ইরানের ‘রণতরী ও স্থাপনা’ টার্গেট করার নীতি যুদ্ধকে এক অন্তহীন পথে নিয়ে যাচ্ছে।







