“আগ্রাসন থামলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে”: ওয়াশিংটনকে তেহরানের কড়া বার্তা, ট্রাম্প বলছেন দেরী হয়ে গেছে

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, তখন কূটনৈতিক লড়াইয়েও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে তেহরান ও ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানের একটি স্কুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চায়নি, কিন্তু অন্য পক্ষগুলো (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এখন যুদ্ধ বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো হামলাকারীদের হাত থামানো।”

বাঘাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই হামলাকারীদের বাধ্য করতে হবে যাতে তারা এই সংঘাত বন্ধ করে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করলেও পশ্চিমা শক্তিগুলো যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি ও লারিজানির প্রত্যাখ্যান

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব পরাজয় নিশ্চিত বুঝে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে লিখেছেন, “ওরা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি অনেক দেরি হয়ে গেছে! তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা, বিমান বাহিনী এবং নৌ বাহিনী—সব এখন শেষ।”

ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

বিশ্লেষণাত্মক পয়েন্ট

  • কূটনৈতিক অচলাবস্থা: ট্রাম্পের ‘দেরি হয়ে গেছে’ মন্তব্য এবং লারিজানির সমঝোতা প্রত্যাখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী হতে পারে।

  • নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা: ইরানের মুখপাত্রের আহ্বানে নিরাপত্তা পরিষদ কতটুকু সাড়া দেবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, কারণ পরিষদের প্রধান স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধের পক্ষ।

  • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের তা প্রত্যাখ্যান করা মূলত একটি বৈশ্বিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ, যার লক্ষ্য নিজ নিজ দেশের জনগণের মনোবল ধরে রাখা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top