সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দাফনের পরদিন অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের দীর্ঘ আলোচনা হয়, যেখানে উঠে আসে অতীতের মতো দেশের প্রয়োজনে আবারও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার। শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার পর সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন। কারাগারে তাঁর নিঃসঙ্গতা ও অসুস্থতা নিয়ে তৎকালীন সরকারের অমানবিক আচরণের সমালোচনা করার পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম জিয়ার জানাজায় যে ঐতিহাসিক জনসমাগম হয়েছে, তা প্রমাণ করে জাতি তাঁর অবদানকে কতটুকু মূল্যায়ন করে। এই বিশাল বিদায় সংবর্ধনা দেশের পরবর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে আলোচনা। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সবাই মিলেমিশে ভালো কিছু করার যে স্বপ্ন বেগম জিয়া দেখিয়ে গেছেন, সেই ‘ঐক্যের পাটাতন’-এর ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে চায় জামায়াত। তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক কৌশলের আভাস দিয়ে জানান যে, নির্বাচনের পরপরই এবং সরকার গঠনের ঠিক আগে বিএনপি ও জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে বসবে। সেই বৈঠকে খোলামনে আলোচনার মাধ্যমে জাতির জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারাও জামায়াত আমিরের এই দেশপ্রেমিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, যা আগামী দিনে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরবর্তী এই বৈঠকটি কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যম ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের কঠিন এক ক্রান্তিলগ্নে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। খালেদা জিয়া যে ঐক্যের ডাক দিয়ে গেছেন, তাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখন উভয় দলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।







