ঢাকা-চট্টগ্রামে নতুন কর্ড লাইন ও কক্সবাজারে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে
 

 

ঢাকা-চট্টগ্রামে নতুন ‘কর্ড লাইন’ ও কক্সবাজারে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা: রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভ্রমণের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমিয়ে আনা এবং কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করার বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী চার জোড়া ট্রেনের বদলে পাঁচ জোড়া ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা জানান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দূরত্ব ও সময় কমবে

রেলপথের আধুনিকায়ন ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের সময় কমিয়ে আনার স্থায়ী সমাধান নিয়ে রেল প্রতিমন্ত্রী জানান:

  • নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইন: নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন সরাসরি ‘কর্ড লাইন’ (Cord Line) নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।

  • সময় ও পথ সঞ্চয়: প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্বের পথ প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। ফলে বর্তমানে ট্রেনের দীর্ঘ যাত্রার সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে।

কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও আইকনিক স্টেশন বেসরকারি খাত

কক্সবাজার কেন্দ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ:

  • ৫ জোড়া ট্রেন চালু: পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যমান চার জোড়া ট্রেনের পরিবর্তে পাঁচ জোড়া ট্রেন চালু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে নতুন ট্রেনটি ঢাকা নাকি চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক হবে তা দ্রুতই জানানো হবে।

  • আইকনিক স্টেশনের দায়িত্ব হস্তান্তর: কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটির পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার নীতিগতভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে।

রেলের জমি ও পরিবেশ পুনর্বাসনের নতুন পদক্ষেপ

পরিদর্শনকালে রেল প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা ও জমি ব্যবহারের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন:

১. নতুন জমি ইজারা বন্ধ: রেলের জমিতে নতুন করে কোনো ইজারা না দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুরানো ইজারাগুলোর বৈধতা পর্যালোচনা করে বাতিলযোগ্য জমিগুলোতে সরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

২. সামাজিক বনায়ন: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা পড়েছিল। পরিবেশের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেল প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে সতর্ক করে জানান, দরপত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা দলীয়করণ বরদাশত করা হবে না। রেলে যাত্রীদের সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অনিয়মগুলো দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top