শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে নিজের মেয়াদকালের দায়িত্ব পালনের আত্মমূল্যায়ন তুলে ধরেছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চরম রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশ কোনো বড় ধরনের সাংবিধানিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেলে স্পিকারের কাছে পাঠানো আনুষ্ঠানিক ও স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্রে তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি নিজের মেয়াদকালের সংকটকালীন অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্ব পালনের নানা রূপরেখা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর
পদত্যাগপত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
সেই সংকটময় মুহূর্তে গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে তিনি লেখেন:
-
সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ (Article 106) অনুসরন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক মতামত নেন।
-
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে জাতীয় নির্বাচন: আপিল বিভাগের সেই ঐতিহাসিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। পরবর্তীতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দফায় দফায় সংলাপ ও সার্বিক আলোচনার মাধ্যমে সফলভাবে একটি অবাধ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
“সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা পেয়েছে”
বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারার পুনরুজ্জীবন ঘটেছে এবং বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দল (জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী জোট) গঠনমূলক গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখেছে। পুরো এই রাজনৈতিক ও আইনি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বঙ্গভবন থেকে তাঁর ইতিবাচক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং আইনগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।







