দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও সভাপতির দ্বায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতায় ১৬ জুলাই ‘বিমসটেক’ বৈঠকে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ - Peoples News
 

 

দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলেও সভাপতির দ্বায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতায় ১৬ জুলাই ‘বিমসটেক’ বৈঠকে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ

সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অপমানজনক ঘটনার বিষয়ে ভারতের দেওয়া অফিশিয়াল ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। তবে ভারতের আচরণে তীব্র অসন্তোষ থাকলেও আঞ্চলিক বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে আগামী ১৬ জুলাই নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার্স মিটিং’ (BIMSTEC National Security Advisers’ Meeting)-এ অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিমসটেক সভাপতির দ্বায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা

দ্বিপক্ষীয় চরম উত্তেজনার মধ্যেও কেন বাংলাদেশ এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক জোট ‘বিমসটেক’-এর সম্মানিত সভাপতি (Chair)। এই কারণে বহুপক্ষীয় এই আন্তর্জাতিক শীর্ষ বৈঠকের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। কোনো দ্বিপক্ষীয় বিরোধের জেরে বাংলাদেশ তার এই আন্তর্জাতিক ইমেজ ও আঞ্চলিক ফোরামের নেতৃত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না।

আসন্ন এই মেগা বৈঠকে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। কূটনৈতিক প্রটোকল ও নিয়মতান্ত্রিক অনুষঙ্গ মেনে তাঁর এই দিল্লি সফরের বিষয়টি ইতিমধ্যে অফিশিয়াল কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

ভারতের ব্যাখ্যা ‘অসন্তোষজনক’, প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দৃঢ়তার সাথে জানান, সম্প্রতি ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই পুশব্যাক করা বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) যে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছিল, বাংলাদেশ তা কোনোভাবেই ‘সন্তোষজনক’ মনে করেনি। বাংলাদেশ মনে করে, এটি আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রাচার ও প্রটোকলের চরম লঙ্ঘন ছিল। ফলে ঢাকা কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে ভারতের সেই দায়সারা ব্যাখ্যাকে ইতিমধ্যে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতের আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ

কর্মকর্তারা কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলামের এই দিল্লি সফরকালে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতি, দ্বিপক্ষীয় প্রটোকল এবং সর্বোচ্চ রাষ্ট্রাচার (Protocol and State Courtesy) যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কিনা, তা বাংলাদেশ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ (Closely Monitor) করবে।

ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সাউথ ব্লকের মাধ্যমে ভারত সরকারকে এই প্রতিনিধি দলের সফর উপলক্ষে কোনো ধরনের ত্রুটি বা শৈথিল্য ছাড়াই প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শনের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে আরও বলেন:

“এ বিষয়ে ভারতের আগামী দিনগুলোর আচরণ এবং আমাদের উপদেষ্টার সফরে তাদের প্রটোকল মেইনটেইনের বিষয়টি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অন্যান্য সকল আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top