সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলায় যুবলীগের ২ নেতার রিমান্ড
 

 

সাভারে নাগরিক পার্টির সমাবেশে বোমা হামলা: যুবলীগের সাবেক নেতাসহ ২ জন ২ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ও সজিবের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

৭ দিনের আবেদন, ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহরিয়ার ইমতিয়াজ।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন:

  • মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এই হামলার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা জরুরি।

  • ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

  • হামলায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং আসামিদের হেফাজত থেকে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের প্রত্যেককে দুই দিন করে পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

আনন্দপুরে অভিযান ও মামলা দায়ের

এর আগে, সোমবার রাতের এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পর এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আজ মঙ্গলবার সকালে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাবেক যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম ও সজিবকে গ্রেপ্তার করে সাভার থানা পুলিশ।

শহীদের বাবাসহ ৬ জন এনাম মেডিকেলে ভর্তি

মামলার এজাহার ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ ককটেল ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই নৃশংস হামলায় এনসিপির ৬ জন নেতাকর্মী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।

হামলায় আহতদের মধ্যে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী এবং দুজন গণমাধ্যমকর্মীসহ ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন:

১. মান্নান গাজী (শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা)

২. শাহীন খন্দকার

৩. জসীম উদ্দিন

৪. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন

৫. মো. মজনু (ক্যামেরা পারসন, ডিবিসি নিউজ)

৬. মো. সাঈদুল ইসলাম (মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, এনপিবি নিউজ)

সাভারের রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top