নেতাকর্মীদের মনে অস্থিরতা স্বাভাবিক, ধৈর্য ধরতে হবে- শামসুজ্জামান দুদু
 

 

দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনার শিকার নেতাকর্মীদের মনে অস্থিরতা থাকা স্বাভাবিক, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে: শামসুজ্জামান দুদু

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের মেগা নির্যাতন, বঞ্চনা ও মামলার শিকার হওয়া বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনে কিছুটা অস্থিরতা থাকা স্বাভাবিক মন্তব্য করে দলের সবাইকে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সাথে দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সাথে রাজপথে থেকে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক বিশেষ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপির তিন প্রবীণ শীর্ষ নেতা—স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত রোগমুক্তি ও আরোগ্য কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘দীর্ঘ বঞ্চনার পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, তবে সরকার সহানুভূতিশীল’

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন:

“বিগত ১৮ বছর ধরে বিএনপির ছোট-বড় সব স্তরের নেতাকর্মী এবং তাঁদের পরিবার শেখ হাসিনা সরকারের চরম ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। শত শত যোগ্য তরুণ শুধু ধানের শীষের রাজনীতি করার অপরাধে চাকরি পাননি, ব্যবসা হারিয়েছেন, বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত বঞ্চনার কারণে নেতাকর্মীদের মনে এখন একধরনের অস্থিরতা বা দ্রুত কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, এটি অস্বাভাবিক নয়। তবে এই মুহূর্তে সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ, বর্তমান নতুন সরকার নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল।”

তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেমন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে দীর্ঘ ১৮ বছরের রক্তক্ষয়ী রাজপথের লড়াই এবং ছাত্র-জনতার মেগা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আজ তারেক রহমান জনগণের হৃদয়ে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে বসেছেন। দেশবাসী গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে।

বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো ঘটনাকে বড় রূপ দিয়ে কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিষয়ে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে চরম সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই যেন কেউ দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে জন্য বর্তমান সরকারকে পূর্ণ দক্ষতা ও ধৈর্যের সাথে সব দলকেই নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের হিংস্র রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে দুদু বলেন, “১/১১-এর মাইনাস ফর্মুলার সময় তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আজ দেশের হাল ধরেছেন। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্দী রেখে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি তাঁকে প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। সেই হিংস্রতার অন্ধকার ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে এখন আমাদের সবাইকে মিলে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হবে।”

শীর্ষ প্রবীণ নেতাদের সুস্থতা কামনা

দলের তিন প্রবীণ নেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান:

  • স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

  • নজরুল ইসলাম খান গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • প্রবীণ আইনজীবী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ও গুরুতর অসুস্থ।

তিনি বলেন, এই প্রবীণ নেতারা মানুষের অধিকার ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে নিজেদের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি আল্লাহর দরবারে তাদের দ্রুত সুস্থতা এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি সালাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সুচারু সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (DSCC) নবনিযুক্ত প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।

  • জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি।

  • দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top