বাজেট অধিবেশন শেষে তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের কুশল
 

 

বাজেট অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কুশল বিনিময়

জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক বিরল ও সুহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সৌজন্যের সুবাতাস দেখা গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) বিকেলে অর্থবিল পাসসহ মেগা বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের সমাপনী ঘোষণা হওয়ার পরপরই সংসদ কক্ষের ভেতরে এই আন্তরিক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

হাতে হাত, মুখে হাসি: সংসদে চমৎকার আবহ

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, স্পিকার কর্তৃক অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন থেকে উঠে বিরোধীদলীয় বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্মিত হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। দুই শীর্ষ নেতা বেশ কিছুক্ষণ অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে করমর্দন করেন এবং একে অপরের খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পাশাপাশি বিরোধী দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্যরাও একে একে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সংসদের ভেতরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পরমতসহিষ্ণু পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য এক শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সকালে বাজেট বক্তৃতায় মুখোমুখি দুই নেতা

এর আগে আজ সোমবার সকালে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে সংসদের বাজেট অধিবেশনের বিশেষ কার্যদিবস শুরু হয়। দিনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে বাজেট খাতের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষে প্রথম বক্তব্য বা সমাপনী ভাষণ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের কিছু কর নীতির যৌক্তিক সমালোচনা করার পাশাপাশি ইতিবাচক সংস্কারগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এরপর সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নির্ধারিত সমাপনী বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার (‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’) অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। দুই নেতার দায়িত্বশীল বক্তব্যের পরই অর্থমন্ত্রী কর্তৃক সংসদে ঐতিহাসিক ‘অর্থবিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

টানটান উত্তেজনার বাজেট বিতর্ক শেষে দুই নেতার এই চমৎকার কুশল বিনিময় সংসদের ভেতরের ও বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ অনেকটাই প্রশমিত করেছে বলে মনে করছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top