দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, বিশেষ করে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা যাচাই করতে খুব শিগগিরই চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে।
শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen) সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও চীনের উদাহরণ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সম্ভাব্য বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আগামী দিনে আরও বেশি গতিশীল হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি দেশের তরুণ সমাজ ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন:
“দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তবে মনে রাখতে হবে, একটি জাতির প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন কেবল বাইরের দেশের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে সম্ভব নয়; এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজেদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার সঠিক বিস্তার এবং প্রতিটি নাগরিকের কঠোর পরিশ্রম।”
চীনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার উদাহরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, চীন কোনো অলৌকিক উপায়ে আজকের অবস্থানে আসেনি, তারা নিজস্ব কঠোর প্রচেষ্টা ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই মডেল অনুসরণ করে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মানবসম্পদ উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই-আগস্টেই আসবে চীনা দল: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুই দেশই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করে যাবে উল্লেখ করে তিনি একটি বড় ঘোষণা দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী জুলাই বা আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে চীনের একটি বিশেষ বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। এই দলটি মূলত উত্তরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন ও চূড়ান্ত করবে।
৬ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপনী অংশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং চীনা রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার মোট ৩৬টি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩০৮ জন সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে উন্নতমানের আধুনিক শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন। এই মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।







