আগামী বছর থেকে সারা বছরই দেওয়া যাবে আয়কর রিটার্ন
 

 

সারা বছরই দেওয়া যাবে আয়কর রিটার্ন: দ্রুত দিলে মিলবে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়, দেরিতে দিলে জরিমানা

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং করদাতাবান্ধব করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা পেরিয়ে করদাতারা বছরের যেকোনো সময় (সারা বছর) তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ পাবেন। তবে করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে একটি চার-স্তরবিশিষ্ট আকর্ষণীয় পুরস্কার ও জরিমানার নতুন আইনি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিশেষ ঘোষণা দেন।

চার প্রান্তিকের নতুন কর রেয়াত ও জরিমানা কাঠামো

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ মাসের অর্থবছরকে মোট ৪টি প্রান্তিকে (কোয়ার্টার) ভাগ করে কর ছাড় এবং অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • প্রথম প্রান্তিক (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর): এই প্রথম তিন মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা বড় সুবিধা পাবেন। এ সময় রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম), সেই পরিমাণ কর ছাড় বা রেয়াত মিলবে।

  • দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর): এই সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। করদাতারা শুধু তাঁদের মূল নির্ধারিত কর পরিশোধ করবেন।

  • তীর্যক বা তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি থেকে মার্চ): এই সময়ে দেরি করে রিটার্ন দিলে জরিমানা গুনতে হবে। এক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

  • চতুর্থ প্রান্তিক (এপ্রিল থেকে জুন): অর্থবছরের শেষ তিন মাসে রিটার্ন দিলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে। এ সময়ে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ font হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

উদ্দেশ্য: কর সংস্কৃতিতে শৃঙ্খলা আনা

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রতি বছর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়ে কর অফিসগুলোতে করদাতাদের উপচে পড়া ভিড় এবং বারবার সময় বাড়ানোর প্রথা তৈরি হয়। নতুন এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে করদাতারা যেমন শেষ মুহূর্তের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকবেন, তেমনি বছরের শুরুতে কর দিলে বড় অঙ্কের আর্থিক সাশ্রয় পাবেন। মূলত কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top