২৯ বছর পর কবর থেকে তোলা হচ্ছে সালমান শাহর মরদেহ
 

 

আদালতের অনুমতিতে ২৯ বছর পর কবর থেকে তোলা হচ্ছে সালমান শাহর মরদেহ

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে দীর্ঘ ২৯ বছর পর তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে ২০২৬ এই ঐতিহাসিক আদেশ প্রদান করেন।

আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম আদালতের এই আদেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির ময়নাতদন্ত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে ২০২৬ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে একটি বিশেষ আবেদন করেন। সেই আবেদনে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, আধুনিক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়।

পুলিশের করা আবেদনে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সালমান শাহর মৃত্যুর দিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়:

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম (সালমান শাহর মামা) তাঁর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে মামলাটি করেছেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলা চৌধুরী, তাঁর স্বামী প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজায় সালমান শাহর বাসায় যান। সেখানে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। এরপর তাঁরা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে আসেন।

এর কিছু সময় পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে ফোন করে জানানো হয় তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। স্বজনেরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সালমান শাহকে শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

২৯ বছর পর অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দিনই রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবার ও ভক্তদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আইনি লড়াই চলেছে। অবশেষে আদালতের নির্দেশে গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সিআইডি আদালতে জানিয়েছে, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ আবার কবর থেকে উত্তোলন করে নতুন করে সুরতহাল ও আধুনিক ফরেনসিক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

মামলার হাইপ্রোফাইল আসামিরা

রমনা থানায় দায়ের করা এই দণ্ডনীয় নরহত্যা মামলায় সালমান শাহর তৎকালীন সময়ের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন:

১. সামিরা হক (সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী)

২. লতিফা হক লুসি (সামিরার মা)

৩. আজিজ মোহাম্মদ ভাই (প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী)

৪. ডন (চলচ্চিত্র অভিনেতা)

৫. ডেভিড

৬. জাভেদ

৭. ফারুক

৮. রুবী

৯. আ. ছাত্তার

১০. সাজু

১১. রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

সিলেটের মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুতই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top