বারবার প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষোভ
 

 

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, খুঁজে বের করে দায়ীদের শাস্তির নির্দেশ

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়ানোর (রিভাইসড) সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বিলম্বের কারণে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কার—তা সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করে দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ সভায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। সভা সূত্রে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প বাতিল, দায়ীদের খোঁজার নির্দেশ

একনেক সভায় আজ ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বাইরে, একনেক সভায় আজ ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি তৃতীয়বারের মতো সংশোধনের (মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি) জন্য উপস্থাপন করা হয়। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির এই খামখেয়ালি প্রস্তাবে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এভাবে রাষ্ট্রের টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না। ফলে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে সরাসরি ফিরিয়ে (বাতিল করে) দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, ঠিক কার গাফিলতি বা দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্পে বারবার সময় ও খরচ বাড়ছে, সেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতি দ্রুত খুঁজে বের করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান।

অস্বাভাবিক ব্যয় কমানোর নির্দেশ ও ‘রেট শিডিউল’ একীভূতকরণের তাগিদ

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ কমানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমানে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ খাতের ব্যয় বা খরচ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক।

সবচেয়ে বড় সমন্বয়হীনতা হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর (PWD)-সহ সরকারের বিভিন্ন নির্মাণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘রেট শিডিউল’ (কাজের মূল্য নির্ধারণী তালিকা) এক না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একেক সংস্থায় একেক রকম রেট থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্নীতির পথ তৈরি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব সরকারি বিভাগের রেট শিডিউল একীভূত (একই কাঠামোতে আনা) করার তাগিদ দেন।

নগরায়ণ নয়, গ্রামীণ পরিবেশ পছন্দ প্রধানমন্ত্রীর: ইউক্যালিপটাস লাগানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা

উন্নয়নের নামে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অনেক দৃষ্টিনন্দন সবুজ গাছ ছিল, যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া বা অন্যান্য প্রধান সড়কেও আগের মতো আর গাছ নেই।

তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল ইট-পাথরের অন্ধ নগরায়ণ নয়; বরং দেশের চিরায়ত গ্রামীণ পরিবেশ রক্ষা করা প্রধানমন্ত্রীর প্রধান পছন্দ। এ সময় দেশের পরিবেশ ও মাটির জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস ও ইপিল-ইপিল জাতীয় গাছ যাতে কোনো সরকারি সড়কের পাশে আর না লাগানো হয়, সে বিষয়ে পিজিসিবি, এলজিইডি ও সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে কঠোর সতর্কবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top