অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি সরে দাঁড়ালেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলমান সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের নেতিবাচক প্রচারণার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দীর্ঘ ও আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (৭ জুন ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে ফারুকী লিখেছেন, “প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়। এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে এতটা ভয়াবহ হবে, ভাবিনি।”
সমালোচকদের তীব্র আক্ষেপ: ‘ওরা কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিল না’
ভালো কাজ করতে গেলে যে কঠিন মূল্য দিতে হয়, সেই উপলব্ধি নিয়েই তিনি উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে ফারুকী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। নিজেকে ঘিরে চলমান সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন অনেক মানুষ এখন তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন, যাদের নিয়ে অতীতে কখনও ভাবার বা কথা বলার প্রয়োজনও মনে করেননি তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি সমালোচকদের দিকে ইঙ্গিত করে লেখেন:
“এমনসব মানুষ আমাদের নিয়ে কথা বলছে, যাদের উত্তর দিলেও সম্মান থাকে না। তারা কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিল না। তাদের নামও আমাদের আড্ডায় উচ্চারিত হয়নি। অথচ এখন সাংবাদিকরা ফোন করে তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এটাই হয়তো সেই কাফফারা।”
‘প্রোপাগান্ডাই বলে দেয় আমি কাজ ঠিকমতো করেছি’
চলমান বিতর্ককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সম্মিলিত মিথ্যাচার ও সংগঠিত প্রচারণা (প্রোপাগান্ডা) বরং পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই ছিলেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লেখেন, “এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডাই বলে দেয়, আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছি।”
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান পরিষ্কার করে এই নির্মাতা বলেন, দেশের যেকোনো ঐতিহাসিক ও সংকটময় সময়ে তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এভাবে, “মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষেই থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর ফারুকীর এই দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাইবার দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। নেটিজেনদের একাংশ ফারুকীর এই সাহসী বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের অনেকেই তাঁর বিগত দিনের নানা কর্মকাণ্ডের কথা টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই আত্মপক্ষ সমর্থনের সমালোচনা করে চলেছেন।







