ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। শাহবাজ শরিফ জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বজায় থাকলেও পাকিস্তান পর্দার আড়াল থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, ইরান, মার্কিন প্রশাসন এবং উপসাগরীয় দেশগুলো—সব পক্ষই পাকিস্তানের ওপর সমান আস্থা রাখে। তার মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি বলেন, “শান্তি সহজে অর্জিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।”
ইরানের অবস্থান ও ‘বিশ্বাস সংকট’:
অন্যদিকে, আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো সবচেয়ে বড় বাধা। আরাগচির ভাষ্যমতে, “যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করার যথেষ্ট কারণ ইরানের আছে, আবার ইরানকে বিশ্বাস করার কারণও আমেরিকার আছে—তবুও আলোচনা এগোচ্ছে এক কঠিন বিশ্বাস সংকটের মধ্য দিয়ে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক চুক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনের ওপর।







