বিএনপি সরকারের প্রথম তিন মাসে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে সংবাদপত্রকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। রোববার (১৭ মে ২০২৬) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এই অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া স্বাধীন গণমাধ্যমের অঙ্গীকার অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বাধা হিসেবে কাজ করা পুরনো আইনগুলো সংস্কারের দাবি জানায়। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ‘বি’ ফর্মের আপত্তিকর ধারাটি (যেখানে সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কিছু না প্রকাশের মুচলেকা দিতে হয়) সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনা:
-
গণমাধ্যম সংস্কার: দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম কমিশন গঠন অথবা প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেয় সম্পাদক পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
-
আচরণবিধি প্রণয়ন: গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিলে, সম্পাদক পরিষদ ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানায়।
-
হয়রানিমূলক মামলা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে নূরুল কবীর, মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, এ এম এম বাহাউদ্দীনসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সম্পাদকগণ অংশগ্রহণ করেন।







