জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে এক কৌতূহলোদ্দীপক ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অধিবেশনে পার্থের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর রহমান রসিকতা ও ক্ষোভের মিশেলে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডা. শফিকুর রহমান যখন ফ্লোর পান, তখন সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। তিনি বলেন, “পড়ছি মছিবতে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই। উনাকে (পার্থ) অনুরোধ করবো বক্তব্যের মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে আমার ওপরে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘দয়া’ উনি না করেন।”
জিয়া পরিবার সংক্রান্ত বক্তব্যের পাল্টাপাল্টি:
ব্যারিস্টার পার্থ তাঁর বক্তব্যে জিয়া পরিবারকে নিয়ে করা কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে ১১ দলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় নেতার কড়া সমালোচনা করেন। এর জবাবে ডা. শফিকুর রহমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “উনি কার নামে কোট করেছেন আমি বুঝতে পারিনি, কিন্তু ফাইলটা শুরু করেছেন আমার নামে। জিয়া পরিবারকে আমি নিশ্চিহ্ন করতে বলেছি—এমন রেকলেস কথা আমি কারও নামেই বলি না, এমনকি শেখ হাসিনার পরিবারের নামেও না। যে দোষ করবে শাস্তি তার সাথে যাবে, অন্যের কথা আমার নামে চালান করলে হবে না।”
সংসদে উত্তেজনা ও স্পিকারের হস্তক্ষেপ:
পার্থ পাল্টা জবাবে দাবি করেন যে, তাঁর কাছে পর্যাপ্ত নথিপত্র (ডকুমেন্ট) আছে। এনসিপির এক নেতার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিতে গেলে বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন এবং সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কারও বক্তব্য আপনার পছন্দ হতে পারে বা নাও হতে পারে, কিন্তু এভাবে বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। আমরা চব্বিশের চেতনার কথা বলি, কিন্তু জাতি এই আচরণ দেখতে চায় না।”
ভুল বোঝাবুঝির অবসান:
পরে আবারও ফ্লোর পেয়ে ব্যারিস্টার পার্থ বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, “আমি ১১ দলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় নেতার নাম বলে শুরু করলেও ক্লিপগুলোতে অন্যদের কথাও রয়েছে। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। ডিজিটাল যুগে কাউকে মিথ্যাভাবে দায়ী করার সুযোগ নেই। আমার মিথ্যা বলার দরকার নেই, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আমি সারাদিন বলতে পারব।”
পরিশেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে কোনো রেফারেন্স দিতে হলে তা সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ হতে হবে। বিভ্রান্তিকর উপায়ে তথ্য উপস্থাপন করলে সংসদীয় পরিবেশে সমস্যা তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।







