শাহবাজ-আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধের উত্তেজনা কমলো; হামলা ২ সপ্তাহ স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নাটকীয় ঘোষণায় ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরা

বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের শেষ দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে তিনি আজ রাতের ধ্বংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখছেন।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব:

ট্রাম্পের এই নমনীয়তার পেছনে শর্ত হিসেবে রয়েছে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া। ইরান ইতিমধ্যেই ১০ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যাকে ট্রাম্প একটি কার্যকর সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে এবং বিরোধপূর্ণ অধিকাংশ বিষয়েই দুই দেশ একমত হতে পেরেছে।

ইরানের দেওয়া প্রধান ১০ দফা প্রস্তাবগুলো হলো:
১. নিরাপত্তা নিশ্চয়তা: ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা হামলা না করার নিশ্চয়তা।
২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা।
৩. নিউক্লিয়ার অধিকার: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়া এবং তা মেনে নেওয়া।
৪. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর মার্কিন সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (primary and secondary) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
৫. সম্পদ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ ও অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া।
৬. নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাতিল: ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সকল প্রস্তাব ও রেজুলেশন বাতিল করা।
৭. যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের ফলে ইরানের যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৮. মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কমব্যাট বা যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার করা।
৯. আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি: লেবানন (হিজবুল্লাহ) সহ সমস্ত ফ্রন্টে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা।
১০. চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করা: এই ১০ দফার বিষয়গুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রেজুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদনের দাবি।

ঐতিহাসিক সুযোগ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি:

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে ‘দ্বিমুখী’ (Double Sided) যুদ্ধবিরতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করতে আগামী দুই সপ্তাহ কূটনৈতিক আলোচনা চলবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো আমার জন্য সম্মানের।”

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে আসছিলেন যে, বুধবার রাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় আপাতত স্বস্তি ফিরল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top