আরও ৬ মাস পুরোদমে লড়বে ইরান; হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরব আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মুখে ইরান অন্তত আরও ৬ মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, তেহরান যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয়। তবে এই সংঘাতের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে এখন সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন এক জটিল মোড় নিয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না, তবে সরকারি চ্যানেলে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ১৫ দফা প্রস্তাবকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের অবসান এবং ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ চায়।

আমিরাতের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন:

দীর্ঘদিন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও এখন সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরব আমিরাত এখন হরমুজ প্রণালি শক্তি প্রয়োগ করে সচল রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরব কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাত বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই সামরিক পদক্ষেপের বৈধতা পেতে লবিং করছে এবং ‘আবু মুসা’ দ্বীপসহ বিতর্কিত দ্বীপগুলো পুনর্দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে।

পাল্টা হামলার মুখে দুবাই ও ফুজাইরা:

আমিরাতের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান দেশটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। গত মঙ্গলবারই আমিরাতের বিভিন্ন অবস্থানে অন্তত ৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এবং ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার খবর পাওয়া গেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো উপসাগরীয় দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড দখলের অভিযানে অংশ নেয়, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্য ও ঝুঁকি:

সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাহরাইন এ বিষয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যার ওপর আজ বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্প যদি পূর্ণ বিজয় বা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ সচল করার আগেই যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করেন, তবে আমিরাতের মতো দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রতিবেশী ইরানের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top