স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু সেখানে বসে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত দেড় দশকে শেখ হাসিনা অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করেছেন, শত শত মানুষকে গুম ও খুন করেছেন, অথচ তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। গুম ও খুনের চেয়েও বড় ভয়াবহ বাস্তবতা হলো ফ্যাসিবাদের এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা না থাকা।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আবেগঘন কণ্ঠে জানান, আন্দোলনে নিখোঁজ বা নিহতদের অনেক সন্তানকে তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। কেউ কেউ বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে সহ্য করতে না হয়, সেজন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। যে সব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও ভালোভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিগগিরই উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’
মন্ত্রী আরও বলেন, আমি ফিরে গিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব, তার কাছে চিঠি লিখব যে এসব পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এটি তাদের প্রাপ্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘দেশে নির্বাচন হয়েছে, কেউ মন্ত্রী হয়েছে, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, আবার অনেকেই বড় চাকরিতে গেছেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাদের সন্তানরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। অন্তত তাদের ভবিষ্যৎকে একটু সুন্দর করার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব। এখন সবার প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত এসব পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখা, তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।’
সানজীদা আখতার তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এল যখন সরকার গুম ও খুনের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ভাবছে। বিরোধী দল হিসেবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই ইস্যুতে তাঁর অবস্থান সরকারের ওপর নীতিগত চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দাবিটি সাধারণ মানুষের উদ্বেগেরই প্রতিফলন।







