ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সীমান্তে হত্যার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বিচারব্যবস্থা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর কিংবা দেশটির সাথে সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঢাকার শাহবাগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে গঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ব্রিফিং ও ‘ছায়াযুদ্ধ’ বিতর্ক
গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন:
১. ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থনের অভিযোগ: দিল্লির প্রেস কনফারেন্সটি ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। দিল্লি এটিকে অস্বীকার করলেও তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ভারত যদি সেভেন সিস্টার্সের কোনো স্বাধীনতাকামী সংগঠনকে ঢাকায় প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ দিয়ে দায় অস্বীকার করত, তবে কি ভারত তা মেনে নিত?
২. বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত: বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন একজন আসামিকে নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। এটি কার্যত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লির ‘ছায়াযুদ্ধ’ ঘোষণার শামিল।
৩. কূটনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি: এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া ভাষায় জবাবদিহিতা চাওয়া।
তিন শর্তে ভারতের সাথে বন্ধুত্বের বার্তা
ভারতের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, অকৃত্রিম বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হলে ভারতকে তিনটি মূল বিষয়ে দ্রুত মীমাংসায় আসতে হবে:
-
আসামি ফেরত: শেখ হাসিনাসহ বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ও পালিয়ে থাকা আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।
-
নদীর পানি বণ্টন: তিস্তাসহ অভিন্ন সীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।
-
সীমান্ত হত্যা বন্ধ: সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা চিরতরে বন্ধ ও সুরাহা করা।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, এসব মৌলিক প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা বা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ফলপ্রসূ হতে পারে না।







