ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সীমানায় বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীর একমাত্র মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ বলে স্বতন্ত্র কোনো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি বা পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষই এ দেশের অধিবাসী এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘ইনডিজেনাস আইডেনটিটি ইজ ই-রিলিভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ (Indigenous Identity is Irrelevant for Bangladesh) শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আদিবাসী’ বিতর্ক ও সাংবিধানিক অবস্থান
সিএইচটিআরএফ-এর চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে বলেন:
১. একক পরিচয় ‘বাংলাদেশি’: রাজনৈতিক জাতীয় ঐক্যের দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও প্রধান অংশীজনেরা একমত হয়ে মানুষের মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই জাতীয় ঐক্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি।
২. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ: দেশে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও নৃ-গোষ্ঠীগুলোর ধর্মীয়, সামাজিক ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৩. বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা: পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সমতায় আনতে সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্র ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে।
৪. আন্তর্জাতিক সনদের অপ্রযোজ্যতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ‘ইনডিজেনাস পিপলস রাইটস’ (UNDRIP) সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের সময় বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ফলে ইউএনডিআরআইপি কিংবা আইএলও কনভেনশন-১৬৯ বাংলাদেশের সার্বভৌমে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
গোলটেবিল বৈঠকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন:
-
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি
-
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স
-
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন
-
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম
-
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
-
সাবেক সেনাকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর
-
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ।







