চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বর্তমান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ দফা দাবি পেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আজ রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ, আলেমদের ওপর নির্যাতনের বিচার, কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি বাস্তবায়ন এবং জাতীয় রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ওলামায়ে কেরামদের অংশীদার করার দাবিগুলো লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
হেফাজতে ইসলামের পেশকৃত ৯ দফা দাবি
১. ইসলাম অবমাননা রোধে আইন: মহান আল্লাহ, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে দ্রুত নতুন আইন পাস করা।
২. কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন রোধ: কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোনো দেশীয় আইন সংসদে প্রণয়ন না করা।
৩. বিগত গণহত্যার বিচার: ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্বরোচিত গণহত্যার সাথে জড়িত অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
৪. কওমি ডিগ্রির পূর্ণ বাস্তবায়ন: দাওরায়ে হাদিসের ‘মাস্টার্স সমমান’ সরকারি স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কওমি ডিগ্রিধারীদের যোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইসলাম ধর্ম শিক্ষা’ শিক্ষা বিষয়টি আবশ্যক করা।
৬. কাদিয়ানি ও হিজবুত তাওহিদ: কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হিজবুত তাওহিদ’কে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রামের ষড়যন্ত্র রোধ: পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘিরে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ধর্মান্তর ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা কঠোর হাতে বন্ধ করা।
৮. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অংশীদারিত্ব: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে করা সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম সমাজকে সরাসরি অংশীদার করা।
৯. তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনা: টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমাসহ তাবলিগ জামাতের সকল মূল কার্যক্রম প্রচলিত ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে অব্যাহত রাখা, বিতর্কিত মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
ধর্মীয় সুরক্ষা ও কওমি শিক্ষার অগ্রগতির তাগিদ
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শুনেছেন এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতার আবেগ ও প্রত্যাশা পূরণে সরকারের ইতিবাচক সদিচ্ছা থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হেফাজতে ইসলামের চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।







